মুমিনগণ! যদি কোন পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোন সংবাদ আনয়ন করে, তবে তোমরা পরীক্ষা করে দেখবে, যাতে অজ্ঞতাবশতঃ তোমরা কোন সম্প্রদায়ের ক্ষতিসাধনে প্রবৃত্ত না হও এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্যে অনুতপ্ত না হও।(কুরআন-৪৯;০৬)
কুরআনের এ আয়াতটি হলো মুসলিমদের জন্য ফিৎনার বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র।শুধু ফিৎনা না।সৎ,সত্য,ন্যায়পরায়ণ এর পথে চলতে গেলে এ আয়াতটির শিক্ষাই যথেষ্ট।একজন মানুষ ভুল ধারণা,অবিচার,মিথ্যাচার,অপবাদ থেকে যদি নিজেকে মুক্ত রাখতে চায় তাহলে এ আয়াতটির শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।কিন্তু দুঃখজনক হলে সত্য কুরআন ত হাতে গোনা সব মুসলিমদের ঘরেই আছে কিন্তু কুরআনের জ্ঞান কারো মধ্যে নেই।লেখা ত আছে কিন্তু বাস্তবায়িত হওয়ার নাম নেই।তাই আজ বিভিন্ন মুসলিম এক ধরনের অজ্ঞতায় ভুগছে।লেখাটি বাংলাদেশের অনলাইন জগতে বেশ কিছু জায়গায় পীরের মুরীদের লাশ অক্ষত অবস্থায় থাকার আর্টিকেল দেখে লেখাটির চিন্তা মাথায় আসে।পরে দেখলাম যে এ লেখাটা লিখতে যেয়ে আরও অনেক বিষয় চলে আসে।Google এ যদি আপনি "৩২ বছর পরও কবরে অক্ষত লাশ" লিখে Search দেন তবে অনেক জায়গায় একটা লেখা পাবেন সেটা হচ্ছে ঘুঘু মুনসী নামের এক লোক মৃত্যুর ৩২ বছর পরও লাশ অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে।কিছু জায়গায় ত এমন দাবী করা হয় যে লোকটি নাকি চরমোনাইয়ের মুরীদ ছিল http://hafizabdullah.wapka.mobi/video/view/27595815 এ লিঙ্কে ভিডিও আছে ৪২ সেকেন্ডের ৭০০ কিলোবাইট মেমোরির ভিডিও।যেকোনো সাধারণ মানুষই খবরটি শুনে চমকে যাবে।কিন্তু একজন মানুষ যদি কষ্ট করে আধা ঘণ্টাও ব্যয় করে এ ঘটনার পিছনে তাহলেই এ ঘটনাটার বিরুদ্ধে একজন সাধারণ মানুষই হাজারটা প্রমাণ,যুক্তি,প্রশ্ন দিয়ে ঘটনাটিকে গুড়িয়ে দিতে পারে।প্রথমত,এটা যে চরমোনাইয়ের মুরীদের লাশ তার কোনো প্রমাণ আছে? লোকটির নাম কি আদৌ ঘুঘু মুনসী?এটা কি আসলেই কোনো লাশ? শেষ প্রশ্নটা শুনে পাঠক নিশ্চয়ই চমকে উঠলেন।"এটা কি আসলেই কোনো লাশ?" এ এবার কেমন কথা হলো?
অনলাইনে এই ঘুঘু মুনসীর ৩২ বছর পরও যে লাশ অক্ষত অবস্থায় আছে এ বিষয় নিয়ে যতো ছবি,ভিডিও বা অন্যান্য মিডিয়া আছে সেখানে কোথাও লাশের ছবি দেখায় নাই।শরীরের একটা অংশও এমনকি কেনি আঙুল পর্যন্ত দেখায় নি।উপরের ভিডিওটা দেখলেই বুঝবেন।ছবি দুটোই দেখুন
Photo of Ghu Ghu Munshi http://tinyurl.com/q8cavvx
http://tinyurl.com/pjedb5v
অনলাইনে এ নিয়ে যতগুলো লেখা আছে সব লেখাতেই এ দুটো কিংবা দুটোর একটা ছবি ব্যবহৃত হয়েছে।কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে ৩২ বছর পরও যে লাশ অক্ষত অবস্থায় আছে এ আমরা বুঝব কীভাবে যেখানে শরীরের একটা অংশও দেখা যাচ্ছে না বরং সেটা আদৌ লাশ কি না সেটা নিয়েই ব্যাপক সন্দেহ করা যায়।আর আদৌ এটা ঘুঘু মুনসী নাকি অন্য লাশ আর যদি হয়েই তাহলে এটা যে চরমোনাইয়ের মুরীদ সেটা কীভাবে প্রমাণ হয়?
তাছাড়া ৩২ বছর পরও যে লাশ পচে নাই এ খবরের সূত্রগুলো দেখলে যেকোনো বিজ্ঞ হাসতে হাসতে অক্ক্বা পাবে।দেখে নিন এ খরবরটা কোন কোন জায়গায় প্রকাশিত হয়েছে
• http://www.amarblog.com/boiragi/posts/149246
• https://m.facebook.com/janosanglap/posts/1534565450147759
• http://m.somewhereinblog.net/mobile/blog/bakalam/29620124
• http://www.weeklysonarbangla.net/news_details.php?newsid=8475
• http://www.karatoa.com.bd/details.php?pub_no=953&val=122396&menu_id=5
• http://shobujbanglablog.net/29154.html
• http://www.muslimpopulation.com/News/News_30.php
• http://sajdaisonlyforallah.blogspot.com/2013/01/blog-post_9854.html?m=1
Google Search সে সবগুলো একসাথে দেখুন http://tinyurl.com/ghughu-munshi-all
যত্তগুলো সূত্র আছে সবগুলো হচ্ছে ব্লগের লিঙ্ক।আচ্ছা ব্লগের লিঙ্ক কি কখনো নির্ভরযীগ্য সূত্র হয়? এখন যদি আমি আমার ব্লগে www.amarblog.com/blogs/vinceneras একটি মানুষের আকৃতি ঢাকা কাপড় দিয়ে আশে পাশে ৪/৫ লোকের ছবি দিয়ে ব্লগে লিখি
"মোফিজ নামের এক লোকের অক্ষত অবস্থায় ৩০বছর পর পাওয়া গেছে" তাহলে কি আপনি বিশ্বাস করবেন?এই খবরের যত সূত্র আছে সবগুলোই ব্লগ এবং নকল খবরের নাম দিয়ে ছাপানো সাইট থেকে প্রকাশ করা হয়েছে।
সবগুলো সূত্রের মধ্যে আমার সবচেয়ে মজা লেগেছে এ সূত্রটা http://forum.projanmo.com/topic36848-p2.html এই লেখাটি না বরং উপরে দেয়া লিঙ্কে বেশ কিছু লেখায় খবরটি লিখে নিচে "সূত্রঃকালের কন্ঠ" লিখে পাঠকদের সামনে ভেল্কিবাজি মারা হয়েছে।তবে এ লেখাটিতে দেখলাম কালের কন্ঠের লিঙ্কও প্রদান করা হয়েছে।তারপর আমি একটু চমকে গেলাম।আমি জানি কালের কন্ঠ একটি ইসলাম বিদ্বেষী পত্রিকা এবং অনেক বানোয়াট খবর ছাপায়,তবুও চরমোনাই আর তাদের মুরীদ বলে কথা!! শরীরে ৫০ কেজি মাংস আছে তবে মাথায় ১ গ্রামের বুদ্ধি নাই।টুপি,পাঞ্জাবী পরিহিত অবস্থায় ইসলামী আন্দোলন করে তবে ভদ্রতা,নম্রতা,হিক্বমা,নৈতিক শিক্ষা কিছুই নাই।এই লিঙ্কে সূত্র হিসেবে কালের কন্ঠ বলে এ লিঙ্কটি প্রদান করা হয়েছে http://www.dailykalerkantho.com/index.php?view=details&type=gold&data=Airline&pub_no=918&cat_id=1&menu_id=43&news_type_id=1&index=19 আমি কিছু বলব না।পাঠকই দেখে নিন লিঙ্কে কি মানিক-রতন আছে।এখানে সূত্র হিসেবে যে লিঙ্কটি ব্যবহার করা হয়েছে কালের কন্ঠের লিঙ্ক হিসেবে প্রকৃতপক্ষে Daily Kaler Kontho এটা কালের কন্ঠ পত্রিকার সাইটই না।কালের কন্ঠের আসল অনলাইন পত্রিকার লিঙ্ক www.kalerkantho.com
Daily Kaler Kontho এটা কোনো সাইটই না।
এটি চরমোনাইয়ের মুরীদের তৈরী সাইটের লিঙ্ক যেখানে দাবী করা হয়েছে ঘুঘু মুনসী চরমোনাইয়ের মুরীদ ছিল http://charmonai24.com/site_847.xhtml
এ লিঙ্কে প্রমাণ হিসেবে ২টি লিঙ্ক প্রদান করা হয়েছে
১। http://www.amardeshonline.com/pages/details/2012/06/20/150586
২। http://www.peaceinislam.com/m-m-nour-hossain/12554/
আগে ২য় সূত্রটা খন্ডন করা যাক।২য় সূত্রটা আসলে খন্ডন করার কোনো প্রয়োজন নেই।তবুও চরমোনাই আর তার মুরীদরাও যেহেতু লেখাটি পড়বে তাই।আমি জানি আমার লেখা না লেখায় চরমোনাই বা চরমোনাইয়ের মুরীদ কেউ তার ভ্রান্ত আক্বিদা পাল্টাবে না।কারণ এদের থেকে বস্তির অশিক্ষিত ছেলে আর রাস্তার বখাটে ছেলেদের সম্মান অনেক বেশি।এরা আমার লেখা পড়বে কি না আর পড়েও বুঝবে কি না সেটা নিয়েই ব্যাপক সন্দেহ আর সেখানে নিজেদের আক্বিদা পাল্টাবে এটা চিন্তা করি না আমি।তাছাড়া আমি বহু আগেই প্রমাণ করেছি চরমোনাই একজন ধর্মদ্রোহী,ধর্মব্যবসায়ী এবং গন্ডমূর্খ http://sajidsarkerblog.blogspot.com/2015/02/chormonai.html?m=1
২য় সূত্রটাও একটি লেখামাত্র।তবে সেখানেও একই ধাপ্পাবাজি করা হয়েছে যে লেখার শেষে "সূত্রঃকালের কন্ঠ" দিয়ে ইতি টেনেছে।আর সেই সূত্রের লিঙ্ক কই? নাই।
১ম সূত্রটাও বেশ দূর্বল থাকলেও তবুও তর্কের খাতিরে মেনে নিলাম যে ঘুঘু মুনসী নামের এক লোকের লাশ পাওয়া গেছে যার মৃত্যুর ৩২ বছর পরও লাশ অক্ষত।তবুও এই সূত্রে কোথাও বলা নেই যে লাশটা যে চরমোনাইয়ের মুরীদের।কোন প্রমাণ নেই লাশটা চরমোনাইয়ের মুরীদের।আর যাচাই করারও যে একটা উপায় ছিল তা হচ্ছে লাশের চেহারা দেখে।আর লাশের চেহারা কই? নাই।
যদি এই খবরটা সত্যিও হয় এবং আসলেই যদি এটা চরমোনাইয়ের মুরীদ হয় তবুও এটা কেরামতের ধারের কাছেও আসে না।আমি এখন প্রমাণ করব যে ৩২ বছর লাশকে অক্ষত অবস্থায় রাখার জন্য চরমোনাইয়ের মুরীদ হওয়া লাগে না।বিজ্ঞান এবং ধর্ম উভয় দিয়েই এ ঘটনাটিকে গুড়িয়ে দেয়া যায়।
৩২ বছর লাশ অক্ষত অবস্থায় থাকাটা প্রকৃত পক্ষে অলৌকিক কিছুই না।এরকম হাজার হাজার ঘটনা রয়েছে যেখানে একজন সাধার মানুষের লাশও ৩০০ বছর পর্যন্ত অক্ষত অবস্থায় আছে।তারই কিছু নমুনা দিচ্ছি।আমি এখন যে নমুনাগুলা পেশ করছি ঘুঘু মুনসীর ৩২ বছর পর অক্ষত অবস্থায় থাকা লাশটি সেগুলোর কেনি আঙুলের সমানও না।অবশ্য ঘুঘু মুনসীর লাশ আসলেই অক্ষত কি না এটার কোনো প্রমাণ নেই।শুধু বলাই হচ্ছে অক্ষত তবে এর কোনোই প্রমাণ নেই।আগেও প্রমাণ দিয়েছি লাশের কোনো অংশের চিত্র কোথাও প্রকাশিত হয় নি।
Curious mind wants to know,"How can I specify that the body is actually fresh and without any damage at all?"
যাই হোক,শুরু করি
১)সেইণ্ট বেটিনা যিটা।
তার মৃত্যু হয়েছিল ১২৭২ সালে।৩০০ বছর পর তার লাশ অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়।তারপর তার লাশকে মোমি করে রাখা হয়।তার লাশ এখন সান ফ্রেডিয়ানোর বেসিলিয়ায় ইতালিতে আছে।
Photo http://tinyurl.com/saint-betina-zita
২।দাশি দোরজোহো ইতিগিলোভ।
১৯২৭ সালে মারা যান।২০০২ সালে তার লাশ পাওয়া যায় সেই অবস্থায় যেখানে মানুষ মৃত্যুর পর ৩৬ ঘণ্টা অবস্থায় থাকে।অবশ্য তারপর থেকেই তার আকৃতি বদলাতে থাকে।
Photo http://tinyurl.com/igitolov
৩। লা দনসেলা
লাশের বয়স প্রায় ৫০০ বছর।১৯৯৯ সালে পাওয়া যায়।দেখে কি মনে হয় জানি না।আমার কাছে মনে হচ্ছে ঘুমিয়ে আছে।লাশটা আর্জেণ্টিনায় পাওয়া গিয়েছিল।একন ইনকানা গোষ্ঠির মেয়ে।
Photo http://tinyurl.com/lkobj6h
৪।ঝিন ঝুই
১৬২ BCE তে হৃদরোগের কারণে মৃত্যু বরণ করেন।১৯৭১ সালে তার লাশ পাওয়া যায়।তখন পর্যন্ত লাশটা ঠিক ছিল।তবে আজ আর সে নীল পরী নেই।তবুও ২০০০ বছরের এক জীবিত মানুষের তুলনায় সে বেশ ভালোই আছে
Photo http://tinyurl.com/lye9nc6
৫।সেইণ্ট ক্যাথরিন লেবোরে
১৮৭৬ সালে মারা গেলেও ১৯৩৩ পর্যন্ত তার লাশ অক্ষত অবস্থায় ছিল।এখনও আছে।তবে হাতের স্থানটা নকল।এখন যদি সোজা অঙ্ক করি তাহলে কত হয়?
২০১৫-১৮৭৬=?
Photo http://tinyurl.com/ltmrzzf
Source: Wikimedia Commons
এই তালিকা লিখে শেষ করা সম্ভব নয়।আমি নিচে আরও দিলাম।
• m.mentalfloss.com/article.php?id=58170
• en.m.wikipedia.org/wiki/Incorruptibility
• www.welikeviral.com/mummified-buddhist-monk-found-alive-almost-90-years-death.html
• https://wwwanderlusting.wordpress.com/2013/02/24/saints-who-dont-decay/
• listverse.com/2007/08/21/top-10-incorrupt-corpses/
• https://m.youtube.com/watch?v=WqHLSDznpmk
• http://www.irfi.org/articles2/articles_3151_3200/miracles%20of%20the%20martyrshtml.htm
এখানে খ্রিষ্টান,বৌদ্ধ এবং মুসলিমরাও আছেন।তার মানে কি নির্দিষ্ট করে কোন ধর্মকে এখানে টেনে আনা যায়?
আবারও Curious Mind Wants to know,"এদের মধ্যে কারা চরমোনাইয়ের মুরীদ ছিল?"
পাঠকদের কাছে প্রশ্ন রইলো,"ঘুঘু মুনসীর ঘটনার সাথে উপরের ঘটনাগুলো মিলালে কি হয়?"
কেনি আঙুলের ময়লার সমান? তাও বোধহয় হয় না।
সবই অক্সিজেন,তাপ,ব্যাক্টেরিয়া আর খোলা প্রাকৃতিক পরিবেশের অনুপস্থিতির খেলা।আর ধর্মব্যবসায়ী/ভন্ডরা বলে এগুলা নাকি কেরামত??!!
কুরআনের এ আয়াতটি হলো মুসলিমদের জন্য ফিৎনার বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র।শুধু ফিৎনা না।সৎ,সত্য,ন্যায়পরায়ণ এর পথে চলতে গেলে এ আয়াতটির শিক্ষাই যথেষ্ট।একজন মানুষ ভুল ধারণা,অবিচার,মিথ্যাচার,অপবাদ থেকে যদি নিজেকে মুক্ত রাখতে চায় তাহলে এ আয়াতটির শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।কিন্তু দুঃখজনক হলে সত্য কুরআন ত হাতে গোনা সব মুসলিমদের ঘরেই আছে কিন্তু কুরআনের জ্ঞান কারো মধ্যে নেই।লেখা ত আছে কিন্তু বাস্তবায়িত হওয়ার নাম নেই।তাই আজ বিভিন্ন মুসলিম এক ধরনের অজ্ঞতায় ভুগছে।লেখাটি বাংলাদেশের অনলাইন জগতে বেশ কিছু জায়গায় পীরের মুরীদের লাশ অক্ষত অবস্থায় থাকার আর্টিকেল দেখে লেখাটির চিন্তা মাথায় আসে।পরে দেখলাম যে এ লেখাটা লিখতে যেয়ে আরও অনেক বিষয় চলে আসে।Google এ যদি আপনি "৩২ বছর পরও কবরে অক্ষত লাশ" লিখে Search দেন তবে অনেক জায়গায় একটা লেখা পাবেন সেটা হচ্ছে ঘুঘু মুনসী নামের এক লোক মৃত্যুর ৩২ বছর পরও লাশ অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে।কিছু জায়গায় ত এমন দাবী করা হয় যে লোকটি নাকি চরমোনাইয়ের মুরীদ ছিল http://hafizabdullah.wapka.mobi/video/view/27595815 এ লিঙ্কে ভিডিও আছে ৪২ সেকেন্ডের ৭০০ কিলোবাইট মেমোরির ভিডিও।যেকোনো সাধারণ মানুষই খবরটি শুনে চমকে যাবে।কিন্তু একজন মানুষ যদি কষ্ট করে আধা ঘণ্টাও ব্যয় করে এ ঘটনার পিছনে তাহলেই এ ঘটনাটার বিরুদ্ধে একজন সাধারণ মানুষই হাজারটা প্রমাণ,যুক্তি,প্রশ্ন দিয়ে ঘটনাটিকে গুড়িয়ে দিতে পারে।প্রথমত,এটা যে চরমোনাইয়ের মুরীদের লাশ তার কোনো প্রমাণ আছে? লোকটির নাম কি আদৌ ঘুঘু মুনসী?এটা কি আসলেই কোনো লাশ? শেষ প্রশ্নটা শুনে পাঠক নিশ্চয়ই চমকে উঠলেন।"এটা কি আসলেই কোনো লাশ?" এ এবার কেমন কথা হলো?
অনলাইনে এই ঘুঘু মুনসীর ৩২ বছর পরও যে লাশ অক্ষত অবস্থায় আছে এ বিষয় নিয়ে যতো ছবি,ভিডিও বা অন্যান্য মিডিয়া আছে সেখানে কোথাও লাশের ছবি দেখায় নাই।শরীরের একটা অংশও এমনকি কেনি আঙুল পর্যন্ত দেখায় নি।উপরের ভিডিওটা দেখলেই বুঝবেন।ছবি দুটোই দেখুন
Photo of Ghu Ghu Munshi http://tinyurl.com/q8cavvx
http://tinyurl.com/pjedb5v
অনলাইনে এ নিয়ে যতগুলো লেখা আছে সব লেখাতেই এ দুটো কিংবা দুটোর একটা ছবি ব্যবহৃত হয়েছে।কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে ৩২ বছর পরও যে লাশ অক্ষত অবস্থায় আছে এ আমরা বুঝব কীভাবে যেখানে শরীরের একটা অংশও দেখা যাচ্ছে না বরং সেটা আদৌ লাশ কি না সেটা নিয়েই ব্যাপক সন্দেহ করা যায়।আর আদৌ এটা ঘুঘু মুনসী নাকি অন্য লাশ আর যদি হয়েই তাহলে এটা যে চরমোনাইয়ের মুরীদ সেটা কীভাবে প্রমাণ হয়?
তাছাড়া ৩২ বছর পরও যে লাশ পচে নাই এ খবরের সূত্রগুলো দেখলে যেকোনো বিজ্ঞ হাসতে হাসতে অক্ক্বা পাবে।দেখে নিন এ খরবরটা কোন কোন জায়গায় প্রকাশিত হয়েছে
• http://www.amarblog.com/boiragi/posts/149246
• https://m.facebook.com/janosanglap/posts/1534565450147759
• http://m.somewhereinblog.net/mobile/blog/bakalam/29620124
• http://www.weeklysonarbangla.net/news_details.php?newsid=8475
• http://www.karatoa.com.bd/details.php?pub_no=953&val=122396&menu_id=5
• http://shobujbanglablog.net/29154.html
• http://www.muslimpopulation.com/News/News_30.php
• http://sajdaisonlyforallah.blogspot.com/2013/01/blog-post_9854.html?m=1
Google Search সে সবগুলো একসাথে দেখুন http://tinyurl.com/ghughu-munshi-all
যত্তগুলো সূত্র আছে সবগুলো হচ্ছে ব্লগের লিঙ্ক।আচ্ছা ব্লগের লিঙ্ক কি কখনো নির্ভরযীগ্য সূত্র হয়? এখন যদি আমি আমার ব্লগে www.amarblog.com/blogs/vinceneras একটি মানুষের আকৃতি ঢাকা কাপড় দিয়ে আশে পাশে ৪/৫ লোকের ছবি দিয়ে ব্লগে লিখি
"মোফিজ নামের এক লোকের অক্ষত অবস্থায় ৩০বছর পর পাওয়া গেছে" তাহলে কি আপনি বিশ্বাস করবেন?এই খবরের যত সূত্র আছে সবগুলোই ব্লগ এবং নকল খবরের নাম দিয়ে ছাপানো সাইট থেকে প্রকাশ করা হয়েছে।
সবগুলো সূত্রের মধ্যে আমার সবচেয়ে মজা লেগেছে এ সূত্রটা http://forum.projanmo.com/topic36848-p2.html এই লেখাটি না বরং উপরে দেয়া লিঙ্কে বেশ কিছু লেখায় খবরটি লিখে নিচে "সূত্রঃকালের কন্ঠ" লিখে পাঠকদের সামনে ভেল্কিবাজি মারা হয়েছে।তবে এ লেখাটিতে দেখলাম কালের কন্ঠের লিঙ্কও প্রদান করা হয়েছে।তারপর আমি একটু চমকে গেলাম।আমি জানি কালের কন্ঠ একটি ইসলাম বিদ্বেষী পত্রিকা এবং অনেক বানোয়াট খবর ছাপায়,তবুও চরমোনাই আর তাদের মুরীদ বলে কথা!! শরীরে ৫০ কেজি মাংস আছে তবে মাথায় ১ গ্রামের বুদ্ধি নাই।টুপি,পাঞ্জাবী পরিহিত অবস্থায় ইসলামী আন্দোলন করে তবে ভদ্রতা,নম্রতা,হিক্বমা,নৈতিক শিক্ষা কিছুই নাই।এই লিঙ্কে সূত্র হিসেবে কালের কন্ঠ বলে এ লিঙ্কটি প্রদান করা হয়েছে http://www.dailykalerkantho.com/index.php?view=details&type=gold&data=Airline&pub_no=918&cat_id=1&menu_id=43&news_type_id=1&index=19 আমি কিছু বলব না।পাঠকই দেখে নিন লিঙ্কে কি মানিক-রতন আছে।এখানে সূত্র হিসেবে যে লিঙ্কটি ব্যবহার করা হয়েছে কালের কন্ঠের লিঙ্ক হিসেবে প্রকৃতপক্ষে Daily Kaler Kontho এটা কালের কন্ঠ পত্রিকার সাইটই না।কালের কন্ঠের আসল অনলাইন পত্রিকার লিঙ্ক www.kalerkantho.com
Daily Kaler Kontho এটা কোনো সাইটই না।
এটি চরমোনাইয়ের মুরীদের তৈরী সাইটের লিঙ্ক যেখানে দাবী করা হয়েছে ঘুঘু মুনসী চরমোনাইয়ের মুরীদ ছিল http://charmonai24.com/site_847.xhtml
এ লিঙ্কে প্রমাণ হিসেবে ২টি লিঙ্ক প্রদান করা হয়েছে
১। http://www.amardeshonline.com/pages/details/2012/06/20/150586
২। http://www.peaceinislam.com/m-m-nour-hossain/12554/
আগে ২য় সূত্রটা খন্ডন করা যাক।২য় সূত্রটা আসলে খন্ডন করার কোনো প্রয়োজন নেই।তবুও চরমোনাই আর তার মুরীদরাও যেহেতু লেখাটি পড়বে তাই।আমি জানি আমার লেখা না লেখায় চরমোনাই বা চরমোনাইয়ের মুরীদ কেউ তার ভ্রান্ত আক্বিদা পাল্টাবে না।কারণ এদের থেকে বস্তির অশিক্ষিত ছেলে আর রাস্তার বখাটে ছেলেদের সম্মান অনেক বেশি।এরা আমার লেখা পড়বে কি না আর পড়েও বুঝবে কি না সেটা নিয়েই ব্যাপক সন্দেহ আর সেখানে নিজেদের আক্বিদা পাল্টাবে এটা চিন্তা করি না আমি।তাছাড়া আমি বহু আগেই প্রমাণ করেছি চরমোনাই একজন ধর্মদ্রোহী,ধর্মব্যবসায়ী এবং গন্ডমূর্খ http://sajidsarkerblog.blogspot.com/2015/02/chormonai.html?m=1
২য় সূত্রটাও একটি লেখামাত্র।তবে সেখানেও একই ধাপ্পাবাজি করা হয়েছে যে লেখার শেষে "সূত্রঃকালের কন্ঠ" দিয়ে ইতি টেনেছে।আর সেই সূত্রের লিঙ্ক কই? নাই।
১ম সূত্রটাও বেশ দূর্বল থাকলেও তবুও তর্কের খাতিরে মেনে নিলাম যে ঘুঘু মুনসী নামের এক লোকের লাশ পাওয়া গেছে যার মৃত্যুর ৩২ বছর পরও লাশ অক্ষত।তবুও এই সূত্রে কোথাও বলা নেই যে লাশটা যে চরমোনাইয়ের মুরীদের।কোন প্রমাণ নেই লাশটা চরমোনাইয়ের মুরীদের।আর যাচাই করারও যে একটা উপায় ছিল তা হচ্ছে লাশের চেহারা দেখে।আর লাশের চেহারা কই? নাই।
যদি এই খবরটা সত্যিও হয় এবং আসলেই যদি এটা চরমোনাইয়ের মুরীদ হয় তবুও এটা কেরামতের ধারের কাছেও আসে না।আমি এখন প্রমাণ করব যে ৩২ বছর লাশকে অক্ষত অবস্থায় রাখার জন্য চরমোনাইয়ের মুরীদ হওয়া লাগে না।বিজ্ঞান এবং ধর্ম উভয় দিয়েই এ ঘটনাটিকে গুড়িয়ে দেয়া যায়।
৩২ বছর লাশ অক্ষত অবস্থায় থাকাটা প্রকৃত পক্ষে অলৌকিক কিছুই না।এরকম হাজার হাজার ঘটনা রয়েছে যেখানে একজন সাধার মানুষের লাশও ৩০০ বছর পর্যন্ত অক্ষত অবস্থায় আছে।তারই কিছু নমুনা দিচ্ছি।আমি এখন যে নমুনাগুলা পেশ করছি ঘুঘু মুনসীর ৩২ বছর পর অক্ষত অবস্থায় থাকা লাশটি সেগুলোর কেনি আঙুলের সমানও না।অবশ্য ঘুঘু মুনসীর লাশ আসলেই অক্ষত কি না এটার কোনো প্রমাণ নেই।শুধু বলাই হচ্ছে অক্ষত তবে এর কোনোই প্রমাণ নেই।আগেও প্রমাণ দিয়েছি লাশের কোনো অংশের চিত্র কোথাও প্রকাশিত হয় নি।
Curious mind wants to know,"How can I specify that the body is actually fresh and without any damage at all?"
যাই হোক,শুরু করি
১)সেইণ্ট বেটিনা যিটা।
তার মৃত্যু হয়েছিল ১২৭২ সালে।৩০০ বছর পর তার লাশ অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়।তারপর তার লাশকে মোমি করে রাখা হয়।তার লাশ এখন সান ফ্রেডিয়ানোর বেসিলিয়ায় ইতালিতে আছে।
Photo http://tinyurl.com/saint-betina-zita
২।দাশি দোরজোহো ইতিগিলোভ।
১৯২৭ সালে মারা যান।২০০২ সালে তার লাশ পাওয়া যায় সেই অবস্থায় যেখানে মানুষ মৃত্যুর পর ৩৬ ঘণ্টা অবস্থায় থাকে।অবশ্য তারপর থেকেই তার আকৃতি বদলাতে থাকে।
Photo http://tinyurl.com/igitolov
৩। লা দনসেলা
লাশের বয়স প্রায় ৫০০ বছর।১৯৯৯ সালে পাওয়া যায়।দেখে কি মনে হয় জানি না।আমার কাছে মনে হচ্ছে ঘুমিয়ে আছে।লাশটা আর্জেণ্টিনায় পাওয়া গিয়েছিল।একন ইনকানা গোষ্ঠির মেয়ে।
Photo http://tinyurl.com/lkobj6h
৪।ঝিন ঝুই
১৬২ BCE তে হৃদরোগের কারণে মৃত্যু বরণ করেন।১৯৭১ সালে তার লাশ পাওয়া যায়।তখন পর্যন্ত লাশটা ঠিক ছিল।তবে আজ আর সে নীল পরী নেই।তবুও ২০০০ বছরের এক জীবিত মানুষের তুলনায় সে বেশ ভালোই আছে
Photo http://tinyurl.com/lye9nc6
৫।সেইণ্ট ক্যাথরিন লেবোরে
১৮৭৬ সালে মারা গেলেও ১৯৩৩ পর্যন্ত তার লাশ অক্ষত অবস্থায় ছিল।এখনও আছে।তবে হাতের স্থানটা নকল।এখন যদি সোজা অঙ্ক করি তাহলে কত হয়?
২০১৫-১৮৭৬=?
Photo http://tinyurl.com/ltmrzzf
Source: Wikimedia Commons
এই তালিকা লিখে শেষ করা সম্ভব নয়।আমি নিচে আরও দিলাম।
• m.mentalfloss.com/article.php?id=58170
• en.m.wikipedia.org/wiki/Incorruptibility
• www.welikeviral.com/mummified-buddhist-monk-found-alive-almost-90-years-death.html
• https://wwwanderlusting.wordpress.com/2013/02/24/saints-who-dont-decay/
• listverse.com/2007/08/21/top-10-incorrupt-corpses/
• https://m.youtube.com/watch?v=WqHLSDznpmk
• http://www.irfi.org/articles2/articles_3151_3200/miracles%20of%20the%20martyrshtml.htm
এখানে খ্রিষ্টান,বৌদ্ধ এবং মুসলিমরাও আছেন।তার মানে কি নির্দিষ্ট করে কোন ধর্মকে এখানে টেনে আনা যায়?
আবারও Curious Mind Wants to know,"এদের মধ্যে কারা চরমোনাইয়ের মুরীদ ছিল?"
পাঠকদের কাছে প্রশ্ন রইলো,"ঘুঘু মুনসীর ঘটনার সাথে উপরের ঘটনাগুলো মিলালে কি হয়?"
কেনি আঙুলের ময়লার সমান? তাও বোধহয় হয় না।
সবই অক্সিজেন,তাপ,ব্যাক্টেরিয়া আর খোলা প্রাকৃতিক পরিবেশের অনুপস্থিতির খেলা।আর ধর্মব্যবসায়ী/ভন্ডরা বলে এগুলা নাকি কেরামত??!!
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন